মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 23 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
08 October 2026
অন্যান্য

সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, অবশেষে বীথীর মৃত্যু

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বীথী আক্তার (২৫) আর নেই। দীর্ঘ চার মাস শারীরিক নানা জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম।

বীথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বীথী। তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা বীথীর শারীরিক অবস্থারও ব্যাপক অবনতি ঘটে। একসময় তার ওজন ছিল ৬১ কেজি। অসুস্থতার মধ্যে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে।

এদিকে সন্তান জন্মের পরও দীর্ঘ চার মাস নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না বীথী। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় তার ছোট্ট সন্তান।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বীথী। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘বীথীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও আমি বীথীর বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানকে দুইবার দেখে এসেছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’

পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই বীথীর পেটে গজ রয়ে যায়। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।