মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 09 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
08 October 2026
অন্যান্য

বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬: সবার জন্য মানসম্মত চক্ষুসেবা নিশ্চিতের আহ্বান

আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইওএইচ) যৌথ উদ্যোগে ‘লাভ ইয়োর আইজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ আয়োজনে বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য মানসম্মত চোখের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে সরকারি প্রতিনিধি, চক্ষু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সিআইআরডিএপি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত র‍্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় চক্ষু স্বাস্থ্য, সবার জন্য চিকিৎসার সুযোগ এবং চোখের যত্নে সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, “কাজ করা, শেখা, নিরাপদে চলাফেরা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য ভালো দৃষ্টিশক্তি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা পেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে সচেতনতা বাড়াতে এবং সবার কাছে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারলে আরও অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।”

আলোচনা পর্বের শুরুতে আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, “২০২০ সালের নেশনওয়াইড ব্লাইন্ডনেস সার্ভে অনুযায়ী, ৩০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর প্রভাব শুধু চোখে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কর্মক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলে। এজন্য পিছিয়ে পড়া মানুষদের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।”

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন বলেন, “চশমা হয়তো খুব সাধারণ একটি সমাধান, কিন্তু এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এটি পড়াশোনা, জীবিকা অর্জন এবং নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই দিনটি চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সবাইকে একত্রে নিয়ে আসে এবং প্রয়োজনীয় সেবাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করার সুযোগ তৈরি করে।”

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোঃ মহসীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। তিনি বাংলাদেশে চোখের স্বাস্থ্যসেবা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএপিবির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কান্ট্রি চেয়ার ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো. জিন্নু রেইন (নিউটন) এবং ওএসবির প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম হেড ডা. আফসানা হাবিব শিউলি।

প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর নেতৃত্বে এ বছর ৮ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ পালিত হলো। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ-এর কো-চেয়ার ও দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক।

**আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ সম্পর্কে:**
আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম। এই সংস্থাগুলো প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে এবং সকলের জন্য মানসম্মত চক্ষু সেবা সহজলভ্য করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।