08 October 2026
বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরুর এই ধাপকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।
আজ বৃহস্পতিবার রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত্ সংযুক্ত করার আগে আরো দুটি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ব্যবস্থার সেফটি ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) নিয়ে জটিলতার কারণে এত দিন এ অনুমোদন আটকে ছিল। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে বিভিন্ন কৌশলে সমস্যাটির সমাধান করে।
পরবর্তী সময়ে একাধিক পরীক্ষায় সেফটি ভালভের কার্যকারিতা সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদনের পথ খুলে যায়। এখন রিঅ্যাক্টরে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর স্থির অবস্থা থেকে সক্রিয় অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে পূর্ণ নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার ১ শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করে ‘ইনিশিয়াল ক্রিটিক্যালিটি’ বা প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটিতে নেওয়া হবে।
এ পর্যায়েই শুরু হবে প্রথম স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন বা ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি। এ সময় রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, বিভিন্ন সিস্টেম, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে।
ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
