মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 09 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
09 October 2026
অন্যান্য

আমরা ভারতবিরোধী নই: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, তাঁরা ভারতবিরোধী নন, বরং আধিপত্যবাদের বিরোধী। বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য কোনো দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার বিরোধিতা করেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ক্ষেত্রে সবার আগে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লির আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা ভারত আজীবন মনে রাখবে। সে সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতিতে দেশের স্বার্থের পরিবর্তে ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে অনেকে তাঁদের ভারতবিরোধী বললেও প্রকৃত অবস্থান হলো আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ভারতের বিষয়ে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কী হবে, তা-ও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির দর্শন বুঝতে শহীদ আবরার ফাহাদের আটটি স্তম্ভের ধারণাগুলো অনুধাবন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়ে বিভিন্ন কাজে তাঁকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে উল্লেখ করে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আট হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা। এ প্রকল্পে কাঠের অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাইকোয়ান্দো, কারাতে ও অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা ছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সীমিত পরিসরের হলেও ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘রক্ষীবাহিনী’ গঠনের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তিন বছরে আট হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাকে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের তুলনায় ছোট উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক রাজনীতিক প্রকাশ্যে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রাখেন। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিলে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন, দলের ভেতরে প্রভাব কিংবা মন্ত্রিত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিবেচনা থেকে কেউ কেউ নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সিকিমের ইতিহাস তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীতিগত আপস ও আধিপত্যবাদী প্রভাবের কারণে একটি রাষ্ট্রের স্বাধীন অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নৈতিক পরাজয়ের পরিণতি পুরো রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে দেখতে হবে বাংলাদেশ কী পাচ্ছে এবং অপর পক্ষ কী সুবিধা পাচ্ছে। চুক্তিটি দেশের জনগণের জন্য কতটা লাভজনক এবং এতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, সেটিই হওয়া উচিত মূল বিবেচনা।

তিনি বলেন, দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি উভয়ের জন্যই লাভজনক হতে পারে। তাই ভারতের সঙ্গে চুক্তি করতেও তাঁদের আপত্তি নেই, যদি তাতে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য ও লাভজনক সমঝোতা হলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক হবে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য দেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়ার পক্ষে তাঁরা নন। কোনো চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সামান্য অথচ অপর পক্ষের সুবিধা অনেক বেশি হলে সেই চুক্তির বিরোধিতা করবেন তাঁরা।

যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তব কাজেও এর প্রতিফলন থাকতে হবে।