মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 09 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
09 October 2026
অন্যান্য

কুআ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, আছে মৃত ব্যক্তিদের নামও

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুআ) কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সদস্য নবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শেষ মুহূর্তে অফলাইন ও ‘বাল্ক পেমেন্টের’ মাধ্যমে সদস্যদের চাঁদা হালনাগাদ, নিবন্ধন না করেও কয়েকজনের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব বিষয় তুলে ধরে কুআর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে তা আরও যাচাই-বাছাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

কুআর ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে জানা যায়, কয়েকজন সদস্য নিবন্ধন বা ভোটার ফি প্রদান না করেও ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম দেখতে পেয়েছেন।

কুআর ওয়েবসাইটে নিজের নাম ও সদস্যপদ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় আইডি ৯৫০৫২৭-এর বিপরীতে GM000356 নম্বরে একটি জেনারেল মেম্বারশিপ দেখানো হচ্ছে। সেখানে তাঁর নাম ‘Md Saiful Islam Khan (Zoha)’ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি এই অ্যাকাউন্ট তৈরি করিনি, এর জন্য আবেদনও করিনি এবং অন্য কাউকেও আমার পক্ষে এটি তৈরি করার অনুমতি দিইনি। অ্যাকাউন্টটির পাসওয়ার্ডও আমার জানা নেই। ফলে আমি এতে প্রবেশ করতে পারি না।’

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের ১৬ ব্যাচের রুহুল আমিন রিয়াদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। নিজের প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কুআর ভোটার তালিকায় আমার নাম দেখে আমি ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। আমি কোনো ভোটার ফি প্রদান করিনি এবং রিইউনিয়নেও অংশগ্রহণ করিনি। এরপরও কীভাবে আমার নাম কুআতে অন্তর্ভুক্ত হলো, নির্বাচন কমিশনকে এর স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।’

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন মো. সাইফ খান। তাঁকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তাঁর কাছে স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি।

ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগও উঠেছে। এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ৯৭ ব্যাচের মানস কুমার সাহা (সাগর) গত ২৩ মার্চ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে তাঁর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে তাঁর নাম এখনও কুআর ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একই ডিসিপ্লিনের ১২ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিনা আক্তার শ্বাসকষ্টজনিত কারণে চুয়াডাঙ্গার একটি হাসপাতালে মারা গেলেও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সিএসসি ডিসিপ্লিনের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী শ্রী প্রীতম খা স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেলেও তাঁর নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কুআ সদস্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর কুআ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইন মেম্বারশিপ রেজিস্ট্রেশন ও বার্ষিক চাঁদা হালনাগাদের সময়সীমা শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, কুআর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটার হতে হলে আজীবন সদস্য অথবা বার্ষিক ৫০০ টাকা চাঁদা পরিশোধকারী সদস্য হতে হয়। তাই সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক সদস্যের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

ড. মামুন আরও বলেন, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে সদস্যদের পরিচয়, গ্র্যাজুয়েশন স্ট্যাটাস, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডুপ্লিকেট বা একাধিক নিবন্ধন শনাক্ত এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা উচিত। এসব বিষয় নিশ্চিত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে কুআ নির্বাচন কমিশনার এ টি এম মাসুদ রেজা বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমাদের ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটারের তথ্য হালনাগাদ করা, সদস্য অন্তর্ভুক্তিকরণ নয়। তারপরও দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করা যায়, আমরা করেছি। প্রথম দফায় ১৩৭ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৯৪ জনকে বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।’

কুআর গঠনতন্ত্রের কিছু জায়গা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে এ টি এম মাসুদ রেজা বলেন, গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হলে ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।