মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 09 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
09 October 2026
অন্যান্য

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে ডাকাতি, ভয়ংকর তথ্য দিল গোয়েন্দারা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সর্বস্ব লুট করছে এসব চক্রের সদস্যরা। অপরাধ সংঘটনে প্রভাবশালী মাফিয়ারা ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হলেও নেপথ্যে থাকা মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বিমানবন্দর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায় চক্রের সদস্যরা। নানা প্রচেষ্টায় তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের জামিনে মুক্ত করতে এক শ্রেণির আইনজীবীর সঙ্গে চুক্তি রয়েছে চক্রগুলোর। অনেক ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীরা বাকিতে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন। গোয়েন্দাদের ভাষ্য, বর্তমানে পেশাদার ডাকাতদের চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

গত ৬ জুলাই এমনই এক ডাকাতির শিকার হন চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া এলাকার সামাদ গাজী বাড়ির বাসিন্দা মো. খোরশেদ। দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল ডাকাত তাঁকে একটি কালো গাড়িতে তুলে নেয়।

পরে খোরশেদের চোখ ও হাত-পা বেঁধে ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে তাঁকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

শুধু খোরশেদ নন, বিমানবন্দর ও আশপাশের সড়কগুলোতে প্রবাসফেরত যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের নিয়মিত টার্গেট করছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে এসব অপরাধে অংশ নিচ্ছে চুক্তিভিত্তিক ভাড়াটে ডাকাতরা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে, এমনকি বিদেশ থেকে এসেও ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। তাদের পরিকল্পিত ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেকেই।

সম্প্রতি একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব অপরাধের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মাফিয়া চক্র। তারা সরাসরি মাঠে না নেমে ভাড়াটে ডাকাতদের দিয়ে অপরাধ সংঘটন করায়। চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে প্রকাশ্যে টার্গেট করা ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁর মালামাল লুট করে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়।

চুক্তি অনুযায়ী, ডাকাতির মালামাল নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ভাড়াটে অপরাধীরা টাকা পায়। অপরাধ সংঘটনের পর তারা দ্রুত ঢাকা ছেড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে যায়। গ্রেপ্তার হলে জামিনে বের হওয়ার ব্যবস্থাও আগে থেকেই করে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দরসহ উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। অনেক চেষ্টায় তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

তবে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এসব এলাকায় ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।