09 October 2026
একজন যাত্রী, সঙ্গে ২০ স্বজন! বিমানবন্দরে বিদায়-অভ্যর্থনার নামে জনসমাগমের বিড়ম্বনা

একজন বিদেশ যাচ্ছেন, তাঁকে বিদায় জানাতে হাজির পরিবারের পাঁচ থেকে দশজন সদস্য। কখনো আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব মিলিয়ে সেই সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জনেও পৌঁছায়। আবার দীর্ঘদিন পর কোনো প্রবাসী দেশে ফিরলে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির হন একদল মানুষ। কারও হাতে ফুলের তোড়া, কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউবা অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রিয়জনকে ঘিরে এমন আবেগঘন দৃশ্য বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠলেও দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিদায় ও অভ্যর্থনা জানাতে আসা অতিরিক্ত মানুষের ভিড় নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, বহির্গমন ড্রাইভওয়ে এবং আগমনী ক্যানোপিতে মানুষের জটলা, গাড়ির দীর্ঘ সারি ও বিশৃঙ্খল চলাচল যাত্রীসেবাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অথচ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন ব্যক্তি নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু সামাজিক আচরণ কিংবা নাগরিক সচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।
একজনের বিদায়ে যেন পারিবারিক আয়োজন
বাংলাদেশে বিদেশযাত্রা অনেক পরিবারের কাছে বিশেষ ঘটনা। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানো প্রবাসীদের বিদায় জানাতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও বিমানবন্দরে আসেন।
একইভাবে কয়েক বছর পর কোনো প্রবাসী দেশে ফিরলে তাঁকে স্বাগত জানাতে পরিবারের অনেক সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে একটি মাইক্রোবাস কিংবা একাধিক গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরে আসেন স্বজনেরা।
তবে আবেগের এই বহিঃপ্রকাশ কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন যাত্রীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য এক বা দুজন স্বজন যথেষ্ট হলেও কেন পুরো পরিবারকে বিমানবন্দরে উপস্থিত হতে হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
বিশেষ করে যাত্রীদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দর্শনার্থীর উপস্থিতি বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
নিয়ম দুজনের, বাস্তবে ভিন্ন চিত্র
২০২৫ সালের ১০ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা, যানজট কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করে।
নির্দেশনায় বলা হয়, একজন যাত্রীকে বিদায় কিংবা স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরের ডিপারচার ড্রাইভওয়ে ও অ্যারাইভাল ক্যানোপি এলাকায় সর্বোচ্চ দুজন ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই অনুমতি টার্মিনালের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
একই নির্দেশনায় যাত্রীবাহী গাড়িকে বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন গেটে সর্বোচ্চ দুই মিনিট অবস্থানের অনুরোধ জানানো হয়।
কিন্তু নির্দেশনা জারির এক বছরের বেশি সময় পরও অতিরিক্ত দর্শনার্থীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর বহির্গমন এলাকায় যাত্রীদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জটলা, এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখা এবং হকার ও দালালদের উপস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রশ্ন উঠেছে, নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন?
নিরাপত্তা কমিটির সভাতেও উঠেছে বিষয়টি
বিমানবন্দরের অতিরিক্ত জনসমাগম নিয়ে উদ্বেগ শুধু সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাতেও স্থান পেয়েছে।
গত ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় উপস্থাপিত গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজন প্রবেশের নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আট থেকে দশজন পর্যন্ত ক্যানোপি এলাকায় প্রবেশ করছেন।
এতে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নজরদারি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ওই সভায় যাত্রীদের সঙ্গে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি দর্শনার্থীর প্রবেশ ঠেকানো, চেকপোস্টে তদারকি জোরদার এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের সরেজমিন প্রতিবেদনে অতিরিক্ত দর্শনার্থীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকার চিত্র পাওয়া যায়।
ভোগান্তির শিকার প্রকৃত যাত্রীরাই
বিমানবন্দরের বাইরে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে প্রকৃত যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রী, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবার এবং ভারী লাগেজ বহনকারীরা ভিড়ের মধ্যে বাড়তি সমস্যায় পড়তে পারেন।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। ফলে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পথে কিংবা টার্মিনালের প্রবেশপথে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে দেশে ফেরা প্রবাসীদের অনেকেই ক্লান্ত অবস্থায় লাগেজ নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হন। এ সময় ক্যানোপি এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় থাকলে গাড়ি খুঁজে পাওয়া এবং নির্বিঘ্নে বের হওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া যাত্রীদের গাড়ির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বহনকারী একাধিক গাড়ির উপস্থিতি বিমানবন্দরের সড়ক ও পার্কিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
শুধু ভিড় নয়, নিরাপত্তারও প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রবেশপথ, যাত্রী চলাচলের স্থান এবং যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকায় অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি থাকলে কে প্রকৃত যাত্রীর স্বজন, কে সাধারণ দর্শনার্থী কিংবা কে অননুমোদিত ব্যক্তি—তা শনাক্ত করার কাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগমের পাশাপাশি দালালদের তৎপরতা, এলোমেলো গাড়ি পার্কিং এবং নিরাপত্তা চেকপোস্টের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম ওই প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অবাধ প্রবেশকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বজনদের আবেগকে সম্মান জানানো যেমন জরুরি, তেমনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল স্থানে প্রবেশ ও চলাচলের নিয়ম মেনে চলাও অপরিহার্য।
কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানিয়েছেন, ক্যানোপি এলাকায় যাত্রীদের বাইরে অতিরিক্ত মানুষের চাপ নিয়ে মাঝেমধ্যে অভিযোগ পাওয়া যায়। নিয়ম না মানার প্রবণতাকে এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, যাত্রীর সঙ্গে দুজনের প্রবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে গাড়ি তল্লাশি করতে সময় লাগায় পেছনে যানবাহনের সারি তৈরি হয়। গাড়িতে নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের উপস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
এ দুটি বক্তব্যে বিমানবন্দরের বাস্তব পরিস্থিতি এবং নিয়ম বাস্তবায়নের জটিলতা উঠে এলেও প্রশ্ন থেকে যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যা নিরসনে টেকসই ব্যবস্থা কী?
ভালোবাসা প্রকাশের জায়গা কি বিমানবন্দরই?
বাংলাদেশের পারিবারিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে বিদেশযাত্রা কিংবা প্রবাস থেকে ফিরে আসা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেক পরিবারে একজন সদস্য বিদেশে যাওয়ার অর্থ দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ। আবার দেশে ফিরে আসা মানে অপেক্ষার অবসান।
তাই স্বজনদের আবেগকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্য মানুষের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
প্রিয়জনকে বিদায় জানানোর জন্য বাড়িতে কিংবা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই পারিবারিক আয়োজন করা সম্ভব। একইভাবে বিদেশফেরত ব্যক্তিকে বাসায় পৌঁছানোর পর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব মিলে স্বাগত জানানো যেতে পারে।
প্রশ্ন হলো, একজন মানুষকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পরিবারের সবাইকে বিমানবন্দরের সামনে উপস্থিত হওয়া কি সত্যিই প্রয়োজন?
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির বিষয়ও জড়িত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন।
বিমানবন্দরে প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার সময় তাঁদের প্রথম অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার একটি ধারণাও তৈরি হয়।
সুশৃঙ্খল যানবাহন চলাচল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ প্রবেশপথ এবং যাত্রীবান্ধব সেবা একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
সেখানে যত্রতত্র মানুষের জটলা, গাড়ির বিশৃঙ্খল অবস্থান এবং অনিয়ন্ত্রিত দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেশের প্রধান বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির জন্যও অস্বস্তিকর।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিমানবন্দর ব্যবহারের নাগরিক সংস্কৃতির উন্নয়নও তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সমাধান কোথায়?
বিমানবন্দরে অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই হবে না, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুজন দর্শনার্থীর নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা, প্রবেশপথে দৃশ্যমান নির্দেশনা স্থাপন, গাড়ি থামানোর নির্ধারিত সময়সীমা মানানো এবং আগমন ও বহির্গমন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে প্রবীণ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ সহায়তাপ্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য মানবিক ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
বিমানবন্দর এলাকায় হকার, অননুমোদিত পরিবহনসেবা প্রদানকারী ও দালালদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত অপেক্ষার জায়গা এবং গাড়ি ওঠানামার ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে।
তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি। একজন যাত্রীর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক মানুষের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভিড় কমানো সহজ হতে পারে।
শেষ কথা
বিদেশযাত্রা কিংবা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে আবেগের বিষয়। প্রিয়জনকে বিদায় জানানো কিংবা স্বাগত জানানোর আনন্দও স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই আনন্দ যেন অন্য যাত্রীর দুর্ভোগের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
একজন যাত্রীকে বিদায় কিংবা অভ্যর্থনা জানাতে ১০ থেকে ২০ জনের উপস্থিতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট।
ভালোবাসা প্রকাশের জন্য পুরো পরিবারকে বিমানবন্দরে হাজির হতে হবে না। বরং অন্যের চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করাই হতে পারে দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণের প্রকৃত পরিচয়।
