09 October 2026
‘কোনো অবস্থাতেই নয়’, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে ইরানের সাফ না

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়তে কিংবা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি নয় ইরান। দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শন সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ এসলামি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক কর্মসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ কার্যক্রম বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই নয়।’
এসলামি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ছাড়া কীভাবে একটি দেশের পারমাণবিক শিল্প গড়ে উঠতে পারে? বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পারমাণবিক শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অধিকার থেকে সরে আসবে না তেহরান।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো বিষয় নেই।
পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শন নিয়ে অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে এসলামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখনই পরিদর্শন চালানো সম্ভব নয়। এসব স্থাপনায় নিরাপত্তাঝুঁকি এখনো বিদ্যমান বলে দাবি করেন তিনি।
এসলামির ভাষ্য, স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে এবং হুমকি এখনো সক্রিয় রয়েছে—এ বিষয়টি আইএইএ নিজেও জানে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সংস্থাটির পরিদর্শকদের প্রবেশ সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক স্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গবেষকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইরানের আইনসভা জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
তবে হামলার শিকার হয়নি, এমন কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএর পরিদর্শকেরা গিয়েছেন এবং তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন বলে দাবি করেন এসলামি। তাঁর অভিযোগ, এসব পরিদর্শনের বিষয়টি যথাযথভাবে স্বীকার করছে না সংস্থাটি। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপেও আইএইএ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইএইএর সঙ্গে বিরোধ অব্যাহত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার নিয়ে তেহরান ও আইএইএর মধ্যে বিরোধের মধ্যেই ইরানের পরমাণুপ্রধানের এ বক্তব্য এলো।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির পার্লামেন্ট আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার আইন অনুমোদন করে। ওই আইনে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিদর্শনের শর্ত রাখা হয়।
২০২৫ সালের জুনের সংঘাতে ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। পরে ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নাতাঞ্জ স্থাপনা আবারও আক্রান্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, গত জুনে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ তেহরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে তথ্য দিতে এবং পারমাণবিক উপাদানের অবস্থা যাচাই করতে পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।
আইএইএ জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের বৈধ অধিকার।
