মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 09 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
09 October 2026
অন্যান্য

বাবার কাছে উদ্ধারের আকুতি, এরপর ধানক্ষেতে মিলল তাজমিনের মরদেহ

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। মৃত্যুর আগের রাতে বাবার মোবাইলে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমিন। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল, কীভাবে সে নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল, আর কারা তাকে হত্যা করল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছেই পাওয়া যায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে সে।

ঘটনার আগের রাতে বাবার কাছে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমিন বলে জানা গেছে। এরপর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর কীভাবে সে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছাল, তার সঙ্গে কেউ ছিল কি না এবং কী কারণে তার মৃত্যু হলো—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের কাছাকাছি চার-পাঁচটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে ছিল। কয়েকটি স্থানে দৌড়াদৌড়ি বা ধস্তাধস্তির মতো ঘটনার সম্ভাব্য চিহ্নও দেখা যায়। সড়কের এক পাশে ধানক্ষেতে পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তুলে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। গাড়িটি থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির মতো চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের মাথায় কাদা মাখা ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তিনি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, মেয়েটি হয়তো জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি। পাশাপাশি অটোরিকশাটি কীভাবে ধানক্ষেতে এল এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা জানিয়েছে পরিবার।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। গাড়িটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।