মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 10 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
10 October 2026
অন্যান্য

আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 

শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক ও দক্ষিণ আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ নাভি পিল্লে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধবিচারে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পিল্লে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরোধিতা করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে আদালটির কৌঁসুলি ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। এবার আদালতের সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আইসিসিকে দেওয়া হবে না। এ কারণেই আদালটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিসির সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে আদালটির সম্পদ ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা সীমিত করাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের তদন্তের বিষয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি ছিল। পরে ওই তদন্ত বন্ধ করে দেয় আইসিসি।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করে। আদালটির সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো এ আদালতের সদস্য।

আদালটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে আইসিসি ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সুযোগ দেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। তাঁর ভাষ্য, আইসিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় আদালটির কার্যক্রম বন্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স দিতে পারে। এর ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া নির্দিষ্ট কিছু লেনদেন বা কর্মকাণ্ডে সাময়িক ছাড় পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

সাধারণত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ব্যবসা বা সহযোগিতা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এর ফলে ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা সেবা এবং সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসি কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে উন্মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবীমার বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

আদালটির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে ‘ব্লকিং ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার সময় কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন এ ধরনের স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।

আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তাই শুধু ওয়াশিংটন ও আদালটির মধ্যকার বিরোধ নয়; আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ককেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।