মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Thursday, 15 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
10 October 2026
অন্যান্য

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করা হবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে কলেজটির শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি। চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যত্নবান হতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতিরও নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে যান, তখন তিনি চান চিকিৎসক তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া এবং তার সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর মধ্যে মানসিক স্বস্তি ও আস্থা তৈরি করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিবেশদূষণ এবং খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়েও সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দিতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সুস্থ থাকার জন্য সঠিক ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব আবারও বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর তাদের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা মানুষের জন্য ভালো কিছু করবেন, সমাজের জন্য ভালো কিছু করবেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।' কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো: মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো: ইউসুফ মোল্লা টিপু। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।