মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 13 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 October 2026
অন্যান্য

ঈশ্বরগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস পালন

‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্ব জয়’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলা শহরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াদ হোসেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম আতিকুর রাজ্জাক ভুঁইয়া হীরা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভুঁইয়া মনি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ, ঈশ্বরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাশেম, ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন রিপন ও সুজনের উপজেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি মেয়েকে শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে পারলে সে নিজের পাশাপাশি পরিবার ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। উপজেলা

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ্জহুরা বলেন, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। তাই অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে পারলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীশিক্ষার প্রসার এবং মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, বরং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা তৈরি হলেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সহজ হবে। আলোচনা সভা শেষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইজা শাহরিন, ঈশ্বরগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আতিয়া ইরতিজা লাবণ্য এবং চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফরা সাইয়ারা মৃত্তিকা পুরস্কৃত হয়। কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।