মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 13 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
12 October 2026
অন্যান্য

নিকাব ইস্যুতে অভিযুক্ত ঢাবির শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড প্রদর্শন

শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে কটাক্ষ করার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক এবং তাঁর পক্ষ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় কালো মাস্ক পরে লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈষম্য, অপমান ও হেনস্তার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তাঁরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া একই বেঞ্চে ছয়জন ছাত্র বসায় তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর তাঁকে বিভাগের সব ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের প্রতিবাদের লক্ষ্য শুধু অভিযুক্ত শিক্ষক নন; বৈষম্যমূলক আচরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদেরও তাঁরা এর আওতায় এনেছেন। এ সময় তাঁদের হাতে ‘রেড কার্ড টু রেসিস্ট, ক্লাসিস্ট অ্যান্ড হিপোক্রিট’ এবং ‘রেড কার্ড টু দোজ হু সাপোর্ট ডিসক্রিমিনেশন, হিউমিলিয়েশন অ্যান্ড বুলিং’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, নিকাব পরার কারণে এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ রয়েছে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। একইভাবে, ছয়জন ছাত্র এক বেঞ্চে বসায় তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলেও মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, পরে ফেসবুক লাইভে শিক্ষক এসব অভিযোগের যথাযথ ব্যাখ্যা না দিয়ে একপক্ষীয় বক্তব্য দিয়েছেন।

নায়েম আরও বলেন, শিক্ষক নেটওয়ার্কের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ও তাঁর অনুসারীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরই দায়ী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের এ অবস্থানের প্রতিবাদ জানাতেই প্রতীকীভাবে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কর্মসূচির কথা জানান। তিনি লেখেন, নিকাব নিয়ে কথিত অন্যায় আচরণ, বৈষম্য ও দ্বিচারিতার প্রতিবাদে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা কালো মাস্ক পরে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা এ ধরনের আচরণের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি ক্লাসে নিকাব পরার কারণে এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লাস বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের লিখিত অভিযোগের পর জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় তাঁকে বিভাগের সব ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে গত রোববার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টা এবং ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে পাঁচ মিনিট নীরব কর্মসূচি পালন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তাঁর ওই কর্মসূচির পরদিনই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান।