12 October 2026
৫ হাজার টাকার খাবার বিক্রি করে ফুডপান্ডা থেকে পেয়েছেন মাত্র ৬৭ টাকা!

ফুডপান্ডা, একটি বহুজাতিক ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান৷ তাদের নিজস্ব এপস ব্যবহার করে ঘরে বসেই বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে খাবার পৌছে দেয়ার এই প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে ক্রেতাদের অভিযোগ নতুন নয়৷ নির্দ্দিষ্ট সময়ে খাবার ডেলিভারি না করা, ক্লাউড কিচেনের নামে অস্বাস্থ্যকর, নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মানহীন খাবার সরবরাহ, রাজস্ব ফাঁকির মতন অভিযোগ এতোদিন ভোক্তাদের (ক্রেতা) দিক থেকেই আসছিল৷ কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের মুখ থেকে একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ৷
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার পক্ষ থেকে ফুডপান্ডা বর্জনের পর বেরিয়ে আসতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ হারে কমিশন বাণিজ্য ও নানান হিডেন চার্জের নামে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ৷
ফুডপ্যান্ডার মাধ্যমে ৫ হাজার টাকার খাবার বিক্রি করে মাত্র ৬৭ টাকা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রামের মিস্টার ফ্লাইস রেষ্টুরেন্টের মালিক আমিনুল ইসলাম৷ তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, "আমার এই ব্রাঞ্চটি নতুন৷ এখানে আমারা ১১ দিনে ৫ হাজার ৫ টাকার খাবার ফুডপ্যান্ডার মাধ্যমে সরবরাহ করেছিলাম। এর বিপরীতে আমাকে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৬৮ টাকা ! অথচ ফুডপ্যান্ডার কমিশন, আমার অফার ভ্যাট-ট্যাক্স সব বাদ দিলেও আমার নুন্যতম পাওয়ার কথা ২ হাজার ৮০০ টাকা৷ এই বিষয়ে ফুডপান্ডার সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে নুন্যতম রেসপন্স পর্যন্ত করেনি৷ আমি অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি অফিসে এসে কথা বলতে বলে দ্বায়িত্ব এড়িতে যায়৷"
চট্টগ্রামের সুপরিচিত হ্যাশট্যাগ রেস্তোরাঁর মালিক রহমান মিজান বিডি২৪লাইভ কে বলেন, "আমি আর জীবনেও ফুডপ্যান্ডার মাধ্যমে খাবার বিক্রি করবো না৷ কারণ তারা যে হারে টাকা কাটছে তা জুলুমের পর্যায়ে চলে গেছে৷" এসময় তিনি ঢাকা ভিত্তিক চেইন গুলোকে মাত্র ৮ থেকে ১০ পার্সেন্ট কমিশনে ফুড ডেলিভারি করছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন,"চট্টগ্রাম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছ থেকে সরাসরি ৩৫ পার্সেন্ট কমিশন এর বাইরে নানান হিডেন চার্জ নিলেও ঢাকা ভিত্তিক ও বিভিন্ন চেইন রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে সেই চার্জ মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ৷ এই কারণে চট্টগ্রামে বেশীর ভাগ রেস্তোরাঁ মালিকরা যখন ফুডপান্ডা বর্জন করছে তখন চট্টগ্রাম থাকা ঢাকা ভিত্তিক রেস্তোরাঁ গুলো ফুডপান্ডা ব্যবহার করছে৷"
এই বিষয়ে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সদস্য তানভির হায়দার বিডি২৪লাইভকে বলেন, ৩৫ শতাংশ কমিশন কাটার কথা বলে ফুডপান্ডা আমাদের রেস্তোরাঁ মালিকদের কাছ থেকে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ তাদের হিসেবে ধরণ দেখে সাধারণ রেস্তোরাঁ মালিকদের বেশীরভাগই বুঝতে পারেনা এতো টাকা কেন টাকা হচ্ছে৷ অনেককে অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে নানান জরিমানা আবার অনেকের অজান্তেই তার প্রতিষ্ঠানের অর্ডারে বিশেষ অফার ছেড়ে কেটে নেয়া হচ্ছে বিপুল অংকের অর্থ৷
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক জানিয়েছেন, ফুডপ্যান্ডার বিরুদ্ধে আমাদের সুস্পষ্ট অভিযোগ ও ৬ দফা দাবি আমরা আপনাদের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উপস্থাপন করেছি একই সাথে তাদেরকে বর্জন অব্যাহত রেখেছি৷ ইতিমধ্যে আমরা দেশীয় ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে ক্রেতা সাধারণকে খাবার সরবরাহ করার মাধ্যমে আমাদের শূণ্যতা পূরণ করতে শুরু করেছি৷ ফুডপান্ডা যদি আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে না নেয় তাহলে আমরা স্থায়ী ভাবে তাদের বর্জন করতে বাধ্য হবো৷
এই বিষয়ে বিডি২৪লাইভ প্রতিবেদকের হাতে আসা চট্টগ্রামের বিভিন্ন রেস্তুরাঁর পে-আউট স্লিপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে নির্দ্দিষ্ট কমিশন ও ট্যাক্স ছাড়াও বিশেষ ডিসকাউন্ড, ভেন্ডর ভাউচার, মার্কেটিং ফি, অতিরিক্ত চার্জের নামে মোট বিল থেকে বিপুল অংকের অর্থ কেটে রাখছে ফুডপান্ডা৷ এসব বিষয়ে তাদের নির্ধারিত এপসের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারো নাগাল পাওয়া যায়নি৷
