12 October 2026
পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও যুব উন্নয়ন নিয়ে জেলা পরিষদের মতবিনিময়

পাহাড়ের যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রত্যয়ে খাগড়াছড়িতে যুবসমাজের সঙ্গে এক বিশাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পাহাড়ের যুবসমাজের উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান এবং পার্বত্যাঞ্চলের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তরুণদের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক যুব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেন, 'পাহাড়ের উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে যুবশক্তির কোনো বিকল্প নেই। এ অঞ্চলের তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।'
ওয়াদুদ ভূইয়া তরুণদের মাদক, সহিংসতা ও যেকোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা এবং উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সাথে পাহাড়ি ও বাঙালি- সব সম্প্রদায়ের তরুণদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
সভার সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, মং সার্কেলের সার্কেল চিফ সাচিং প্রু চৌধুরী।
সভায় বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের মাধ্যমে ইতিপূর্বে পাহাড়ি ও বাঙালি বেকার যুবকদের দক্ষতা বাড়াতে নানা রকম প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সনদ বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্যটন, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, তাদের কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।
সভায় তরুণদের পক্ষ থেকে উঠে আসা বিভিন্ন যুক্তিসঙ্গত মতামত ও সমস্যার আলোকে যুব উন্নয়ন এবং পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
