মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Sunday, 18 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
17 October 2026
অন্যান্য

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন তিনি।

দিনের শুরুতে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।

পরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। প্রতিবছর এ রোগে অনেক মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকে মারাও যান। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। এ জন্য বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এ কাজে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশাল একটি শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হওয়া না-হওয়া বড় বিষয় নয়; সবাই দেশের নাগরিক এবং দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব প্রত্যেকের।

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

তিনি জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। গাছ বাড়িতে, স্কুলে কিংবা গ্রামের বাড়িতে লাগানো যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাছের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে উঠবে নতুন প্রজন্মও।

রাজধানীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। সময়ের সঙ্গে সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে এবং গাছপালা কমেছে। ফলে শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের সংখ্যা বাড়লে মানুষ আরও নির্মল বাতাস পাবে। সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীরাও তাঁর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়।