মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Monday, 19 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
19 October 2026
অন্যান্য

দুই মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে ঋণের বোঝা, ১৮ বছরেও মেলেনি বেতন-ভাতা

দুই মেয়ের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন চাঁদ আলী খান। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিন সংগ্রাম করছেন তিনি। কিন্তু সংসারের খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে,সেখানে মেয়েদের লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছে না। একদিকে ঋণের বোঝা,অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তার।

সরকারি প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পেয়েও দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। চাঁদ আলী খান শহরের ক্যাডেট কলেজ পাড়ার বাসিন্দা।

চাঁদ আলী খান জানান,‘১০০টি নির্বাচিত মাদরাসায় দাখিল ভোকেশনাল কোর্স প্রবর্তন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ পান ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার বলরামপুর দাখিল মাদ্রাসায়। নিয়োগের জন্য ২০০৪ সালের ৬ অক্টোবর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নিয়োগ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নিয়োগের জন্য সুপারিশপত্র পাঠানো হয়। পরে ২০০৮ সালে ওই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন তিনি। তিনি আরও জানান,প্রকল্পের আওতায় ভবনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরকারি অর্থায়নে সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেও তিনি বেতনভুক্ত হননি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি বিধি অনুযায়ী এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি।

চাঁদ আলীর অভিযোগ,ব্যক্তিগতভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় সংসারের খরচ চালাতে তাকে ধারদেনা করতে হচ্ছে। ঋণের বোঝা বাড়লেও তা পরিশোধের নির্ভরযোগ্য কোনো উপায় নেই। দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন,কীভাবে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবেন এমন দুশ্চিন্তায় কাটছে তার দিন। চাঁদ আলী খান বলেন,‘দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চাকরি করেও বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছে। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে,কিন্তু সেই ঋণ পরিশোধের কোনো উপায় নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।

এত বছর দায়িত্ব পালন করেও যদি বেতন না পাই,তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব? আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই,আমাদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করে পরিবার নিয়ে একটু স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হোক।