21 October 2026
"আমি ঘুমাচ্ছিলাম, ঘুম থেকে উঠে শুনি আমি মন্ত্রী হচ্ছি"

"ইজ্জত সম্মান সব আল্লাহর দান৷ আমি ঘুম থেকে উঠে মন্ত্রী হয়েছি" অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন এভাবেই তাঁর উপদেষ্টা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, "আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ বন্ধুবান্ধব ফোন করে বলল, আপনার নাম উপদেষ্টা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আসেন। অথচ তখনও আমি কিছুই জানি না"
গতকাল (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার আল-মদিনা মহিলা মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খালিদ হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে আরও বলেন, "উপদেষ্টা হওয়ার খবর পাওয়ার সময় আমি ছিলাম চট্টগ্রামের হালিশহরে এবং সেসময় জুমার নামাজ পড়ানোর দায়িত্বে ছিলাম। পরে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গুলশানে যানজটে আটকে পড়লে বন্ধুর পরামর্শে উবার স্কুটারে করে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হই। তখনো আমি জানিনা আমি উপদেষ্টা হচ্ছি৷ পতিমধ্যে অনেকেই বিভিন্নজনের ফোনে জানতে পারি, টেলিভিশনে উপদেষ্টা হিসেবে আমার নাম প্রচার হচ্ছে, আমি বলেছি আমি কিছুই জানি না। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোনে নিয়োগ ও শপথের বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে আমাকে সরকারী গাড়ীতে করে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়া যায়৷ এর আগে আমি কখনো বঙ্গভবনে যাইনি৷ তার সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে শপথ নিয়েছি।"
সাবেক এই উপদেষ্টা এসব উল্লেখ করে বলেন, "আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার ইচ্ছা করলে তা কেড়েও নেন। ক্ষমতা স্থায়ী নয়। সুযোগ পেলে জনগণের সেবা করতে হবে।"
ধর্ম উপদেষ্টা থাকাকালে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে ড. খালিদ বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি এক টাকাও ঘুষ নেননি। হজযাত্রীদের সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন। আরও কিছু অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বর্তমান সরকার চার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, অর্থের চেয়ে ইজ্জত-সম্মান বড়।
তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষ হজে যান। তাদের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেন। এ সময় হজের কোটা ও চুক্তি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শাইখ কাজী ইকবালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন শিক্ষক ও সাংবাদিক এম জুনায়েদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি মাহমুদুল্লাহ। এ ছাড়া সম্মেলনে বিশিষ্ট আলেমরা কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য দেন।
