মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 22 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
22 October 2026
অন্যান্য

পঞ্চগড়ে মিথ্যা মামলার আতঙ্কে গ্রামবাসী, পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বারবার হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট গ্রামের মৃত মীর বকসের ছেলে ও পঞ্চগড় আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী ফজলুল হক স্থানীয়দের জিম্মি করে রেখেছেন। তুচ্ছ ঘটনা বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তিনি প্রতিবেশী ও সাধারণ মানুষকে অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। তার কথামতো কাজ না করলে বা দাবিকৃত অর্থ না দিলে তিনি নিজেই বাদী হয়ে অথবা আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ফজলুল হক এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন দপ্তরের তদন্তে তার দায়ের করা অনেক মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি তার মামলার সাক্ষী দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাক্ষীকেও আসামি করার নজির রয়েছে। সম্প্রতি তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল খালেক নামের দুই ব্যক্তি সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ঠাকুরগাঁও জেলায় অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে আব্দুল খালেককে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই করিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। যদিও পরবর্তীতে আপস-মীমাংসা হলেও তিনি পুনরায় একই কায়দায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফজলুল হক প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন গ্রামবাসীকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েছেন। এর মধ্যে দেবীডুবা এলাকার সফিউল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, সুরুজ আলী, মরিয়ম বেগম, মিনা খাতুন ও শহীদুর রহমানসহ শতাধিক মানুষ তার হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ফজলুল হক নিজে বাদী হওয়ার পাশাপাশি ভাড়াটিয়া বাদী ব্যবহার করেও এসব মামলা পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আব্দুল খালেক ও আজহার আলীসহ ভুক্তভোগীরা পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষানবিশ আইনজীবী ফজলুল হকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর সাড়া দেননি।