22 October 2026
আরও ২০ বাংলাদেশির শাস্তি কী, জানায়নি সৌদি সরকার

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ উল্লেখ থাকলেও কী সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তাঁদের কারও কারাদণ্ড হয়েছে, নাকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—সৌদি সরকারের পাঠানো তালিকায় তা উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটও।
এই ২২ জনের তালিকায় ছিলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সম্প্রতি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাঁদের মতো তালিকায় থাকা অন্য ২০ বাংলাদেশির শাস্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ওই ২০ জনসহ তালিকাভুক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের সাজার ধরন ও মেয়াদ জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
গত ১৯ অক্টোবর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখায় (জেদ্দা) চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের রায়ের সারসংক্ষেপ দ্রুত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্দিদের কনস্যুলার সেবা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তাঁদের মামলার রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি বন্দিদের একটি তালিকা পাঠায়। এতে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মপরিধির আওতাধীন বিভিন্ন কারাগারে আটক ২ হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশির তথ্য ছিল। তাঁদের মধ্যে কারও মামলার বিচার শেষ হয়েছে, আবার কারও মামলা চলমান।
তালিকাটি পর্যালোচনা করতে গিয়ে কনস্যুলেট দেখতে পায়, কয়েকজন বন্দির অবস্থার ঘরে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ নামে নির্ধারিত কলামটি ফাঁকা রয়েছে। ফলে তাঁদের কী ধরনের সাজা হয়েছে কিংবা সাজার মেয়াদ কত, তা জানা সম্ভব হয়নি।
এরপরই প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত নয় পৃষ্ঠার তালিকায় সংশ্লিষ্ট বন্দিদের বিবরণও রয়েছে।
চিঠিতে তথ্যের ঘাটতি থাকা বন্দির সংখ্যা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংযুক্ত তালিকা পর্যালোচনা করে ২২ জনের রায়ের সারসংক্ষেপের ঘর ফাঁকা পাওয়া গেছে।
নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সামনে আসার পর তালিকার বাকি ২০ জনের পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁদের সাজা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
