মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Saturday, 24 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
23 October 2026
অন্যান্য

চট্টগ্রাম থেকে লুট হওয়া সাড়ে ৭ টন চিনি মিললো ছাত্রদল নেতার দোকানে

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ৩০০ বস্তা চিনি নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান গায়েব হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। লুণ্ঠিত চিনির একটি বড় চালান উদ্ধার করা হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের নোনাছড়ি এলাকায় হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলের একটি বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়। এসব চিনির ওজন সাড়ে ৭ টন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ নিয়ে কাভার্ডভ্যান থেকে লুট হওয়া ৩০০ বস্তা চিনির মধ্যে ২৮৪ বস্তা, অর্থাৎ ১৪ দশমিক ২ টন উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১৬ বস্তা চিনির সন্ধানে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০ বস্তা চিনি নিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান গায়েব হয়ে যায়। পরে চালক মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে চিনি আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে চকরিয়া ও বান্দরবানের আজিজনগর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে এসব চিনি বিক্রির তথ্য পায় পুলিশ।

পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে শুক্রবার ভোররাতে নোনাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে রাসেলের বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লুণ্ঠিত চিনির একটি চালান প্রথমে বান্দরবানের আজিজনগর বাজারের ‘রাজিব স্টোর’-এর মালিক রাহাত উদ্দিন জুয়েলের গোডাউন থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩৪ বস্তা চিনি। পরে চকরিয়ার নোনাছড়িতে তার ভাই রাসেলের বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে আরও ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়।

জুয়েল ও রাসেল সম্পর্কে দুই ভাই। রাসেল হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাদের বিরুদ্ধে লুণ্ঠিত চিনি কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ বলেন, উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে জুয়েল ও রাসেল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে চলে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

চিনির মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পটিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। মামলায় কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আলমগীর ও মুদি দোকানি রাহাত উদ্দিন জুয়েলকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, চালক আলমগীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের চিনি আত্মসাৎ করেছেন।

পটিয়া থানার এসআই মাহবুবুর রহমান বলেন, চালক আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে গত বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং-সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কে নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় চিনিবিহীন কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধারের পর ঘটনার তদন্তে নামে পটিয়া থানা-পুলিশ। তদন্তে লুণ্ঠিত চিনির চালান চকরিয়া ও আজিজনগর এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার তথ্য সামনে আসে। উদ্ধার হওয়া ২৮৪ বস্তা চিনির বাইরে বাকি ১৬ বস্তার সন্ধান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাসেলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।