মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Saturday, 24 October 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
23 October 2026
অন্যান্য

পুলিশের জন্য এবার দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব, সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারের

বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার দুইটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব তুলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) বিবেচনার জন্য প্রকল্প দুটি উপস্থাপন করেছে মন্ত্রণালয়।

আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রস্তাব দুটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের একটি হচ্ছে পুলিশের অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়সংক্রান্ত এবং অপরটি হলো বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়সংক্রান্ত। প্রকল্প দুটির আওতায় মোট ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার জন্য ৬ হাজার ৬০৮.১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগের মধ্যে ৪,৩২৮ কোটি টাকা ৪,৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়ে ব্যয় হবে এবং ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা খরচ হবে ১,০০১টি বিশেষায়িত যানবাহনের জন্য। উভয় প্রকল্পই চলতি বছরের অক্টোবর থেকে জুন ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার।

পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান যানবাহন এবং তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবিত ক্রয় প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুইটিরও কম যানবাহন এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়া এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে কর্মী মোতায়েন করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারবে।

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে।

আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে। যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির জন্য দেড় কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি গত ১৫ অক্টোবর একটি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বিদেশি প্রশিক্ষণ বাদ দেয়া হয় এবং প্রস্তাবটি বাংলাদেশ গণপ্রশিক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের প্রবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য সংশোধন করা হয়।

একইসঙ্গে, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি আলাদাভাবে একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির কোনটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে একনেকের সিদ্ধান্তের ওপর।

মেগা প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে দেশজুড়ে পুলিশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।