27 October 2026
ছাত্রদলের হাত ধরেই রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু: তারেক

ছাত্রদলের হাত ধরেই নিজের রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির লড়াইয়ের শিক্ষা তিনি ছাত্রদল থেকেই পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া, আন্দোলন সংগঠিত করা এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের নানা ঘটনা স্মরণ করেন তারেক রহমান।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। সে সময় কুমিল্লার রানীর দিঘীর পাড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগের শহর শাখার নেতাকর্মীরা তাঁর গলায় এন্টিকাটার ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে কোটা আন্দোলনে অংশ নিতে একটি দল নিয়ে ঢাকায় এসে চারুকলার সামনে হামলার শিকার হন তাঁরা। ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পরে রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় যুক্ত হন।
তবে ২০১৩ সালের কোটা আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০১৭ সালে আবারও আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগ তিনি নিজেই নিয়েছিলেন।
যেভাবে শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলনের প্রস্তুতি
ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন শুরুর আগে তিনি পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের টেবিলে টেবিলে হাতে লেখা লিফলেট রেখে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। শিক্ষার্থীদের বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ কাজে কনফিডেন্স ও ওরাকল সার্বিক সহযোগিতা করেছিল বলে দাবি করেন তারেক রহমান। বিশেষ করে কনফিডেন্সের শিক্ষক সানোয়ার স্যারের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সে সময় তিনি কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে কোটা আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।
৫৪ জন আটক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের দাবি
তারেক রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ তিনি নিজেসহ ৫৪ জন আটক হন। এরপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোদ্ধা মোশারফ হোসাইনকে ফোন করেন তিনি। পরে ছাত্রদলের সহযোদ্ধা কামরুলের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয় বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলেছিল। কোটা আন্দোলনে রাজপথে এটিই ছিল প্রথম প্রতিরোধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তানভীর, হানিফ ও তরিকুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
২০১৮ সালের আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করে তারেক রহমান লেখেন, ‘আমার গা শিউরে উঠে কুবিয়ান হয়ে, ঢাবিতে ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে কিভাবে এই আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীন মোহাম্মদ, ভিপি নুর, রাশেদ খান, মামুন, ফারুক হাসান ও সোহরাব হোসেনসহ অনেকে পরে তাঁর সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হন। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে আন্দোলনটি একটি অসাধারণ সংগ্রামের অধ্যায়ে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে আমজনতা দল
স্ট্যাটাসে তারেক রহমান জানান, সময়ের প্রয়োজনে ছাত্র অধিকার পরিষদ গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে যুব অধিকার, গণঅধিকার ও প্রবাসী অধিকার পরিষদও প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলাদা হয়ে যান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এরপর মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের উদ্যোগে গঠিত আমজনতা দলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো তিনি মিয়া মশিউজ্জামান স্যারের কাছ থেকেই শিখেছেন বলেও জানান।
জাতীয়তাবাদী আদর্শকেই নিজের শিকড় বললেন
নিজের রাজনৈতিক আদর্শের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির শিক্ষা তিনি ছাত্রদল থেকেই পেয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শকেই নিজের রাজনৈতিক শিকড় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও কাজ করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও পরামর্শ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান ছাত্রদলের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
