মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 01 November 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
30 October 2026
অন্যান্য

'৪০ দিনে মার্কিন রণতরীর দিকে ২০টিরও বেশি হামলা চালায় ইরান'

ইরানের  নৌবাহিনী ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪০ দিনের সংঘাত চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আরও প্রায় ৩০০টি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইরনার সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রিয়ার অ্যাডমিরাল জলিল মোকাদ্দাম বলেন, এসব অভিযান ইরানের নৌবাহিনীর অব্যাহত সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে- মার্কিন সরকারের এমন দাবি আবারও নাকচ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের উপকূলের কাছে আসা এড়িয়ে চলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি না এসে তারা শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেছে।

মোকাদ্দামের মতে, এই সংঘাত ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক রণকৌশল ও মতবাদ নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধ ও ৪০ দিনের যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে অভিযানের অগ্রাধিকার এবং সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংশোধন আনা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনেই ইরানি বাহিনী রণতরিটির অবস্থান শনাক্ত করে এবং সেটিকে লক্ষ্য করে একটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপর রণতরিটি তিন দিনের জন্য বিমান পরিচালনা কার্যক্রম স্থগিত রাখে এবং পরে ইরানের উপকূল থেকে দূরে সরে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

অন্য একটি অভিযানের বর্ণনায় তিনি বলেন, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হয়রানি করার পর ডিডিজি ১০৩ (DDG 103) নামে শনাক্ত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনী ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা অন্য তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকেও সমন্বিত হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মোগাদ্দাম বলেন, ৪০ দিনের সংঘাতের পর ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতা ও সরঞ্জামের উন্নতি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে আবার কোনো সংঘাত দেখা দিলে আরও ব্যাপক পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে আগের সংঘর্ষগুলোতে নিহত ব্যক্তিদেরসহ ইরানের নৌবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নৌবাহিনী অব্যাহত রাখবে।

তিনি যোগ করেন, কূটনৈতিক পরিস্থিতি যে দিকেই এগোক না কেন, সম্ভাব্য নতুন সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। 

সূত্র- পার্স টুডে