মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Wednesday, 04 November 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
03 November 2026
অন্যান্য

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের মতে, মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন সচল রাখা জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বার্থের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি জানান, ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। মালিকপক্ষও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল।

আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাই বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন।

কারখানা বন্ধের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

অন্যদিকে, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের দাবি এবং এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন ও শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।