মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 08 November 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
08 November 2026
অন্যান্য

আগাম আমনের বাম্পার ফলনেও হতাশ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন সোনালি ফসলের ঢেউ। জেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে প্রাথমিক আনন্দ থাকলেও, ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম হতাশা। উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চললেও বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা ও ঘরে তোলার কাজে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরির কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। অথচ বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। এছাড়া সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযান দেরিতে শুরু হওয়া এবং আড়তদার ও মিলারদের সিন্ডিকেটের কারণেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সদর উপজেলার ভাউলারহাট এলাকার কৃষক জমির উদ্দিন জানান, ছয় বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাজার দর দেখে তিনি হতাশ। তার ভাষ্য, উৎপাদন খরচ বাদ দিলে লাভের অংশ খুব সামান্যই থাকছে। মহসিন নামের আরেক কৃষক জানান, বর্তমানে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম না বেড়ে উল্টো কমছে। ধানের দাম ও উৎপাদন খরচ প্রায় সমান হয়ে যাওয়ায় খড় বিক্রিই এখন তাদের একমাত্র বাড়তি আয়ের উৎস।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৭০ হেক্টর জমি, যার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর। স্থানীয় ও উফশী জাত মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে। ব্রি-ধান ৭৫, ৯০, ১৭ ও ৭-এর পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের ‘ধানি গোল্ড’ ধানও কাটা শুরু হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, আগাম জাতের ধান চাষ কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। আগে কার্তিক মাসে মঙ্গা থাকলেও এখন আগাম জাতের ধান ঘরে তোলায় সেই সংকট নেই। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ধানের দাম কিছুটা কম হলেও খড় বিক্রি করে তারা লাভবান হতে পারবেন। এছাড়া সরকারিভাবে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু হতে কিছুটা সময় লাগবে।

সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, কৃষকরা যেন এখনই কম দামে ধান বিক্রি না করে কিছু সময় সংরক্ষণ বা মজুদ করে রাখেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে ধান বিক্রি করলে তারা উপযুক্ত দাম পাবেন। এছাড়া অসাধু চক্র যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে।