মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 21 August 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
21 June 2026
অন্যান্য

ভাইরাল বক্তব্যের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার প্রত্যাহার

বিতর্কিত ও বেফাঁস মন্তব্যের কারণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের সই করা এক আদেশে এই প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে তাকে আগামীকাল (২১ জুন) বর্তমান কর্মস্থল ছেড়ে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

প্রত্যাহার আদেশে যদিও সরাসরি কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক জনসভায় তার করা বিতর্কিত মন্তব্যই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মূল কারণ।

কী ছিল সেই বিতর্কিত মন্তব্য?

গত ১৭ জুন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সমাবেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান ওই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেন এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দেন।

তবে এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ইনফরমেশন ইন্সপেক্টরকে বলার পর যদি তা ফাঁস হয়, তবে মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি নিজে ওই ইন্সপেক্টরকে এই গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেব, আপনারা নিজে পিটাইয়া মারবেন।’ এই মন্তব্যের একটি ২৫ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রতিক্রিয়া ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

তার এই বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মহলে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়। বিশেষ করে, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য পুলিশের পেশাদারি সুনাম ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং আইনের শাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

এ অবস্থায় জনমনের ক্ষোভ ও পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে প্রত্যাহার করে নেয়। পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো অনিয়ম বা বিতর্কিত বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আরও তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে প্রশাসন বেশ সতর্ক রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। তবে রাশিদুল ইসলাম খানের এই মন্তব্য ও তার দ্রুত প্রত্যাহার পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকেই ইঙ্গিত করে।