22 June 2026
দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৪ শতাধিক মানুষের জন্য স্থায়ী বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন দীঘিনালা জোন (৪-ইবি)-এর উদ্যোগে বাবুছড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি গভীর নলকূপ ও সাবমারসিবল মোটর স্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে বাবুছড়া ইউনিয়নের ধনপাতাছড়া এলাকার করুনা চান বাঙ্গালো কার্বারী পাড়ায় নবনির্মিত এই পানির উৎসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জোন কমান্ডার মো. আল আমিন বলেন, 'দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কষ্ট লাঘব এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রা সহজ করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পাশে থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।'
জানা যায়, এই গভীর নলকূপ ও সাবমারসিবল মোটরের মাধ্যমে প্রায় ১০৫টি পরিবারের ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মানুষ সরাসরি বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছিলেন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে তাদেরকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পানির সংকটের কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছিল। নতুন এই পানির উৎস স্থাপনের ফলে এখন তারা সহজেই নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে পারছেন, যা তাদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা বলেন, 'এই উদ্যোগের ফলে আমাদের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়েছে। দুর্গম এলাকায় এমন একটি স্থায়ী পানির ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'
স্থানীয় বাসিন্দা অতুলাল চাকমা, সুশান্ত চাকমা জানান- এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের বহুদিনের কষ্টের অবসান ঘটেছে। তারা এই উদ্যোগকে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
