24 June 2026
অবৈধ চায়না জাল তৈরির কারখানায় অভিযান: প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকার জাল উদ্ধার

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মৎস্য বিভাগ একটি অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়ে ৬৮০টি চায়না দুয়ারী জাল ও ৪টি মেশিনসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বাজার মূল্য প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা। অবৈধ জাল তৈরির এক সহযোগীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে জাল তৈরির কারখানার মালিক পলাতক রয়েছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুস সালাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায় যে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার মধ্যরাজিব সয়ারকাজী গ্রামের একটি বাড়িতে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এই জাল সরবরাহ করা হয়।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতিটি ৩০ মিটার লম্বা আকৃতির ৬৮০টি চায়না দুয়ারী জাল, জাল তৈরির ৪টি মেশিন এবং অন্যান্য জাল তৈরির সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা। এছাড়া জাল তৈরির ৩টি ডাইস ভেঙে ফেলা হয়েছে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে জাল তৈরির সহযোগী মধ্যরাজিব সয়ারকাজী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে দুলুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুলুর বাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত ৮০টি জাল ভস্মীভূত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে কারখানাটির মালিক একই গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে খলিল ও তার সহযোগী জলিল পলাতক রয়েছেন। তাদের নামে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য অফিসার বরুন কুমার মন্ডল এবং অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, জব্দকৃত জাল থানায় আনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান জানান, দেশীয় মাছ রক্ষায় কারখানাটির সন্ধান পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দেশীয় মাছ রক্ষায় অবৈধ জাল নষ্টে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
