মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 25 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
24 June 2026
অন্যান্য

কুমিল্লায় বোনের হাতে ভাই খুনের অভিযোগ

কুমিল্লায় বোনের হাতে ভাই খুনের অভিযোগ হাবিবুর রহমান খান কুমিল্লা প্রতিনিধি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে তুচ্ছ ঘটনায় বোন, ভাগিনা ও ভগ্নিপতির হামলায় কৃষক ভাই ইব্রাহিম হোসেন (৫২) নিহতের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌছির গ্রামের মধ্যপাড়া এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন ওই গ্রামের মরহুম রাজা মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত বোন নাছিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ইব্রাহিম হোসেন হত্যায় অভিযুক্ত তার আপন বোন নাসিমা আক্তার ১৯৯২ সালে তার দেবর পেয়ার আহম্মেদকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নাসিমা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।

নিহত ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে আফরোজ আক্তার বলেন, আমার ফুফু নাছিমা আক্তার, ফুফাত ভাই অজিউল্লাহ ও আমার ফুফা কোব্বাত আলী জোরপূর্বক আমাদের বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে আমার বাবা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফুফু, ফুফাতো ভাই ও ফুফা আমার বাবার তল পেট ও বুকেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা আমাদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তাদের অত্যাচারে আমরা নানার বাড়ি দৌলখাঁড় ইউনিয়নের আইটপাড়ায় অবস্থান করি। গত এক বছর থেকে আমরা বাড়িতে অবস্থান করলেই আমার ফুফু, ফুফাতো ভাই ও ফুফা আমাদের আবারো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। গত এক মাস আগেও তারা আমার মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধর করে ঘরে তালা দিয়ে দেয়। পরে ঘরের টিন কেটে আমার মাকে বের করা হয়। তারা আমাদের চলাচলের রাস্তার পাশে টয়লেট বসানোর কারণে ময়লা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে আমাদের চলাচল করতে হয়। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।

এলাকাবাসী জানান, ১৯৯২ সালে নাছিমা আক্তার তার দেবর পেয়ার আহম্মেদকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে নাছিমা আক্তারকে থানা পুলিশ জেলহাজতে পাঠায়।

নাছিমা আক্তার সমাজের প্রভাবশালী ও খারাপ লোকদের হাত করে প্রতিনিয়ত পরিবারটিতে নির্যাতন করে আসছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করছি।

নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাছিমা আক্তারকে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।