মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 26 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
25 June 2026
অন্যান্য

দেশে গাঁজাখোর ৬১ লাখ!

দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক গাঁজা; এর ব্যবহারকারী প্রায় ৬১ লাখ। এছাড়া ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবহারও উদ্বেগজনক হারে বিদ্যমান।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণার জন্য দেশের ৮টি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহ (৬.০২%), রংপুর (৬.০০%) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০%) বিভাগে। তবে সংখ্যার বিচারে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক, প্রায় ২২ লাখ ৯০ হাজার।

মাদকসেবীদের বড় অংশই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা ও মানসিক চাপকে মাদকাসক্তির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, মাদক সহজেই পাওয়া যায়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সুবিধা পেয়েছেন। ফলে প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে অনেকেই মাদক ছাড়তে ব্যর্থ হচ্ছেন। ৬৯ শতাংশ ব্যবহারকারী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট। এ সমস্যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার, কার্যকর নীতি এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, বর্তমানে দেশের মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি বেড়েছে। সরকার ইতিমধ্যে ৭ বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে। পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মূল নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণার ফলাফল দেশের মাদক নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রমের জন্য মূল্যবান তথ্য হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।