মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Friday, 26 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
25 June 2026
অন্যান্য

মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে গ্রাম পুলিশসহ দুই যুবককে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনতার হাতে দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দেওয়ার দুটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর থেকে ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সালেপুর পশ্চিম গ্রামে।

যাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে তারা হলেন চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. লালন খান (২৬) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল (২২)। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হয়।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চর হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোকা মৃধার মাঝখানে বসে আছেন গ্রাম পুলিশ লালন খান। এ সময় লালনের হাতে দুটি সিগারেট দেখা যায়। ভিডিওতে বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল হক খানকে লালনকে উদ্দেশ করে মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায়। তিনি জানতে চান, কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করা হয় এবং কারা তাকে সহযোগিতা করে। জবাবে লালন খানকে নিচু স্বরে কিছু বলতে শোনা যায়।

অপর ভিডিওতে দেখা যায়, লালন খান ও শেখ রিয়াজুলকে বসিয়ে একটি ট্রিমার দিয়ে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। লালনের মাথায় ‘প্লাস’ (+) চিহ্নের মতো আকৃতি রেখে বাকিটা ন্যাড়া করা হয়। অন্যদিকে রিয়াজুলের কপাল থেকে মাথার ওপরের অংশ পর্যন্ত চুল কেটে অপদস্থ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে এ সময় হাসাহাসি ও মন্তব্য করতে শোনা যায়।

ঘটনার বিষয়ে চর হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খান বলেন, “এলাকার কয়েকজন যুবক গ্রাম পুলিশ লালনকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ধরে বাজারে নিয়ে আসে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং তাকে সতর্ক করে কিছু কথা বলেছি। তবে তাদের চুল কেটে দেওয়ার সময় আমি সেখানে ছিলাম না।”

এদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলিশ। চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ থাকলেই তাকে হেনস্তা বা অপদস্থ করার অধিকার কারও নেই। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। ভিডিওগুলো আমরা দেখেছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী অবস্থান অবশ্যই প্রয়োজন; তবে আইনের শাসন উপেক্ষা করে কাউকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া মানবাধিকার ও আইনের পরিপন্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।