মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Friday, 26 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
26 June 2026
অন্যান্য

‘স্কুলছাত্র গুলি খাবে, তারপরও আপনি ওসি থাকবেন, এটা হয় না’

কুমিল্লা নগরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম (১২) গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর কাটাবিল এলাকায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

এ সময় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারকে উদ্দেশ করে এমপি বলেন, “মাদক কারবারিদের কাছে যদি আমরা সবাই আত্মসমর্পণ করে দিই, তাহলে দায়িত্বে থাকার কোনো অর্থ নেই। একজন স্কুলছাত্র নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে না, অথচ আপনি ওসি থাকবেন, আমি এমপি থাকব—এটা হতে পারে না। এই পরিবারের কাছে কী জবাব দেবেন?”

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলা হবে। ইতোমধ্যে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরে এমপি আহত ইথানের মা সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে কথা বলে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, ইথানের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইথানের মা সোনিয়া আক্তার বলেন, “অপু ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার আমার ছেলে স্কুলে গিয়েছিল। টিফিনের সময় বাসায় ফেরার পথে তার পিঠে গুলি লাগে। সে আমার একমাত্র সন্তান। ওর কিছু হলে আমি কী নিয়ে বাঁচব?”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক কারবারিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে সে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর ইথান আহমেদ প্রেম (১২) নগরীর কাটাবিল এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে।