26 June 2026
দৃক গ্যালারিতে পাঠাও-এর বিশেষ প্রদর্শনী

নিরাপদ সড়ক নিয়ে সবাইকে সচেতন করা এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ও সুপারঅ্যাপ ‘পাঠাও’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে মাসব্যাপী "Safe থাকি, Safe রাখি" কার্টুন প্রতিযোগিতা। গত ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এবং যানবাহনের ফিটনেসের মতো প্রতিদিনের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলো কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছিলো।
এই সচেতনতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পাঠাও ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো। এর মাঝে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ছোটোদের সচেতন করতে একটি স্কুলে এবং ‘কার্টুন পিপল’-এর সাথে মিলে গুলশান-২ এ সাধারণ মানুষের জন্য একটি লাইভ ড্রয়িং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো।
দেশজুড়ে দারুণ সাড়া জাগানো এই আয়োজনে বিভিন্ন শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষের কাছ থেকে ৪৫০টিরও বেশি কার্টুন জমা পড়ে। যার মধ্য থেকে বাছাই করা সেরা কার্টুনগুলো নিয়ে গত ২৬ জুন একটি সুন্দর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দৃক গ্যালারিতে বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা কার্টুনগুলোর সৃজনশীলতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তাগুলো সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেন।
এই আয়োজন প্রসঙ্গে পাঠাও-এর সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফাহিম আহমেদ বলেন, “২০১৫ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা লক্ষ-কোটি মানুষের যাত্রার অংশ হয়েছি। আমাদের প্রতিদিনের যে কর্মক্ষেত্র, তা কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; আমাদের কর্মক্ষেত্র হলো এই রাজপথ, সারা দেশের রাস্তা। আর তাই রাস্তায় সবাইকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কারো একার কিংবা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়। এটি আমাদের সকলের একটি সামষ্টিক ও যৌথ দায়িত্ব। Safe থাকি Safe রাখি ক্যাম্পেইনে, আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সবাইকে এই সচেতনতার যাত্রায় সম্পৃক্ত করার জন্য কার্টুনের মতো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সৃজনশীল মাধ্যমকে বেছে নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, কার্টুনিস্টদের মেধা ও মনন সড়ক নিরাপত্তার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা খুব সহজেই সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকব, সবাইকে নিরাপদ রাখব, শিক্ষা, সচেতনতা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আসুন আমরা এই রাজপথকে সবার জন্য নিরাপদ করে তুলি।”
অনুষ্ঠানে আগত বিশেষ অতিথি আহসান হাবিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কার্টুনিস্টদের পথচলা অনেক দীর্ঘ। আমরা যারা কার্টুন আঁকি, তাদের কাজটা শুধু একটা প্যানেলে একটা ছোট্ট ছবি এঁকে ছেড়ে দেওয়া নয়; এর পেছনে থাকে গভীর ভাবনার এক দীর্ঘ জার্নি। 'সেফ থাকি সেফ রাখি' ক্যাম্পেইনের এই আয়োজনে আমাদের প্রফেশনাল ও অ্যামেচার কার্টুনিস্টরা যেভাবে একটি সিংগেল প্যানেল মিডিয়ামের মাধ্যমে সামাজিক এই বার্তা ফুটিয়ে তুলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিটি কার্টুনের পেছনে থাকা সেন্স অফ হিউমার এবং সামাজিক বার্তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আশা করি আমাদের কার্টুনিস্টরা তাদের তুলির আঁচড়ে এভাবেই সমাজ সচেতনতায় আরও বড় অবদান রেখে যাবেন। পাঠাও-কে ধন্যবাদ এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেয়ার জন্য"
এই ক্যাম্পেইনটির উদ্দেশ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সবাইকে সচেতন করা এবং প্রতিদিনের অভ্যাসের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো। কার্টুন ও সৃজনশীল গল্পের মাধ্যমে নিজেদের দৈনন্দিন যাতায়াতের অভ্যাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করা এবং সবার জন্য সড়ক নিরাপদ করতে অনুপ্রাণিত করাই ছিল এর লক্ষ্য।
সারা দেশ থেকে আসা কার্টুনগুলোর বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন দেশের বিখ্যাত কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং জনপ্রিয় তরুণ শিল্পী মোরশেদ মিশু ও রাশাদ ইমাম তন্ময়। বিচারকদের রায়ে বিজয়ী সেরা ৬ জনকে মোট ১,০৫,০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০,০০০ টাকা পাচ্ছেন রাইদ হোসেন। দ্বিতীয় পুরস্কার ২৫,০০০ টাকা পাচ্ছেন নাতাশা জাহান এবং তৃতীয় পুরস্কার ১৫,০০০ টাকা পাচ্ছেন ফরিদুর রহমান রাজীব। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে যথাক্রমে ৫,০০০ টাকা করে পাচ্ছেন জুরিস আল মাহি, শওকত রাসাদিন শওখিন এবং মাহতাব রশিদ।
২৭ জুন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দৃক গ্যালারিতে চলমান এই প্রদর্শনীতে কার্টুন দেখার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য রয়েছে আরও অনেক আকর্ষণ। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীরা দেয়াল পেইন্টিংয়ে পার্টিসিপেট করার সু্যোগ পাচ্ছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে একটি আলোচনা সভা শুনতে পারবেন এবং একটি নাটক উপভোগ করতে পারবেন। বিনোদনের জন্য আরও থাকছে সরাসরি কার্টুন বা ক্যারিকেচার এঁকে নেওয়ার সুযোগ, মজার সব গেম এবং ছবি তোলার জন্য সুন্দর ফটো বুথ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে তরুণদের এই দারুণ উদ্যোগটি দেখার জন্য সবাইকে এই প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
