মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Saturday, 27 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
27 June 2026
অন্যান্য

গাইবান্ধায় হানিট্র্যাপ চক্রের আস্তানায় অভিযান, নারীসহ তিনজন গ্রেফতার

প্রেমের ফাঁদে ডেকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের চেষ্টা, এরপর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়—এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল একটি সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্র। অবশেষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চক্রটির এক নারী সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের কবল থেকে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের সিংজানি (কালিতলা) এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সুন্দইল এলাকার আবু সাঈদ লিমনের স্ত্রী রমীম আক্তার রিপা (২৫), কামারদহ ইউনিয়নের বকশীচর এলাকার মৃত নইবরের ছেলে মোস্তফা (৪৫) এবং গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালুভরা এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৮)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী যুবক শামীম মিয়া বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রমীম আক্তার রিপা মোবাইল ফোনে কৌশলে শামীমকে কালিতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে প্রবেশের পর তাকে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। এতে শামীম বাধা দিলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মোস্তফা ও শহিদুল ঘরে ঢুকে তাকে জিম্মি করে টাকা দাবি করে।

অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শামীম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরও করা হয়। একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে তিনজনকে আটক করে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হানিট্র্যাপের ফাঁদ পেতে মানুষকে ডেকে আনত। পরে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ কিংবা সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করত।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।