27 June 2026
বাস্তবায়ন হচ্ছে পে স্কেল, বেসরকারি চাকরিজীবীরাও কী সুবিধা পাচ্ছেন জেনে নিন

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির এই উদ্যোগের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের কয়েক কোটি বেসরকারি চাকরিজীবীর সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ কর্মনিরাপত্তার বিষয়টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও শুরু থেকেই সব সুবিধা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে না। আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাকি অংশ এবং অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ফলে জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্ধিত বেতনের পূর্ণ সুবিধা পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে এর আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক সংস্কার, বাস্তবায়ন কৌশল এবং জনপ্রশাসনে কর্মদক্ষতা, জবাবদিহি ও সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে কার্যকর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে অঞ্চলভেদে মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা, মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সুবিধা, দুই সন্তানের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা, বছরে দুটি উৎসব ভাতা এবং মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো নিজস্ব সার্ভিস রুলস ও পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়।
এদিকে দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে হওয়ায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনার পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও কার্যকর নীতিমালার দাবি জোরালো হয়েছে। শিল্প, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ ও গণমাধ্যমসহ অর্থনীতির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতেই বেসরকারি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তাদের জন্য এখনো সমন্বিত চাকরি নীতিমালা, চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
যদিও কয়েক বছর আগে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি সমন্বিত সার্ভিস রুলস প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি কর্মীদের জন্যও ন্যূনতম কর্মসংস্থানের মানদণ্ড, চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন সুবিধা এবং শ্রমবান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনপ্রশাসনের জন্য নতুন পে-স্কেলের বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও কত শতাংশ বেতন বাড়বে, কত ধাপে তা বাস্তবায়ন হবে এবং কারা কী ধরনের সুবিধা পাবেন এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবেন।
