মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Sunday, 28 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
27 June 2026
অন্যান্য

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ধর্ষণ মামলার পক্ষে-বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ধর্ষণ মামলার পক্ষে-বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উভয় পক্ষের পরিবার। ধর্ষণের বিচার চেয়ে শুক্রবার উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্রামে ভুক্তভোগীর চাচা সুমন শেখ তার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে সুমন শেখ বলেন, গত ২১ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার ভাতিজীকে নাহিদ ও তাদের সঙ্গীরা জোরপূর্বকভাবে ভাটারা বাজারের উত্তরপার্শ্বে বিলপাড় নামক স্থানে নির্জন ঘরে নিয়ে যায়। পরে নাহিদ আমার ভাতিজীকে জোরপূর্বকভাবে, ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিকাহ নামায় স্বাক্ষর নেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর নাহিদ শিমলা বাজার ইস্পাহানী আবাসিক এলাকাতে ভাড়াকৃত বাসার একটি কক্ষে আটকে রাখে। ভাতিজীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে টানা ২ দিন একাধিকবার ধর্ষণ করে। উক্ত বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের বাড়ীর পাশে ফেলে যায়। বিষয়টি জানার পর মেয়ের মা রোখসানা বাদী হয়ে ২৫ মে সরিষাবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর থেকে নাহিদসহ তাদের লোকজন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করাসহ প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমার ভীতিজীকে ধর্ষণকারী নাহিদসহ সকল আসামীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। এ সময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, বৈধ বিবাহকে ‘ধর্ষণ মামলা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মানিক ওরফে নাহিদের পরিবার। গত রোববার উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামে মানিক ওরফে নাহিদের ছোট ভাই নুরনবী ইসলাম নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বড় ভাই মানিক ওরফে নাহিদের সঙ্গে ফারজু আক্তার রিতুর বিয়ে গত ২১ মে ২০২৬ ইং তারিখে কাজীর মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

রিতুর বাবা ফিরোজ শেখের বর্তমান স্ত্রী দোলনা শেখের সঙ্গে আলোচনা ও পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিরোজ শেখের আত্মীয় সাইফুল খান। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ফিরোজ শেখের একাধিক স্ত্রী রয়েছেন। প্রথম স্ত্রী বর্তমানে ময়মনসিংহের ভালুকায়, দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা গাজীপুরে এবং তৃতীয় স্ত্রী দোলনা শেখ ঢাকার উত্তরা এলাকায় বসবাস করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না করেই পরবর্তীতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মানিক ওরফে নাহিদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রত্যাহার না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদের বাবা দুদু মিয়া, মা নার্গিস বেগম, প্রতিবেশী আল আমিন, সাদেক খোবায়েত ও জরিনা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মামলার কয়েকজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।