27 June 2026
স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনো মেনে নেব না। সবার আগে দেশের স্বার্থ।”
তিনি বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সমঝোতা হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। “আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, আবার নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। এই ভারসাম্য রক্ষা করেই আগামীর নীতি পরিচালিত হওয়া উচিত,” বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই এবং তা বাস্তবায়ন করতে চাই। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, সরকারকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংসদকে পাশ কাটিয়ে যেন কিছুই না হয়। সব কিছু সংসদের ভেতরে হোক। এই সংসদ যেন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলে জনপ্রতিনিধিরা সেগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর করা উভয় দেশকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
