মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Sunday, 28 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
27 June 2026
অন্যান্য

কারাগারের কনডেম সেলে কেমন আছেন আলোচিত সেই মিন্নি

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত বরিশাল বিভাগের বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে ২৬ জুন।

২০১৯ সালের এইদিনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। নেট দুনিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে আলোচিত মামলায় মিন্নিসহ কয়েকজনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারত। বর্তমানে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন মিন্নি।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি কনডেম সেলে অধিকাংশ সময় বেশ নিরিবিলি থাকেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্যদিয়েই তার দিন কাটে। কারাগারের অন্য বন্দি বা কারারক্ষীদের সঙ্গে তিনি খুব একটা কথা বলেন না। কেবল নির্দিষ্ট নিয়মে বাবা-মা কিংবা নিকটাত্মীয়রা সাক্ষাৎ করতে আসলে তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, কারাগারে তার আচরণ স্বাভাবিক এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড নেই ।

কারাসূত্রে জানা গেছে, সাজা ঘোষণার পর মিন্নিকে প্রথমে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় রিফাত শরীফের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় স্থানীয় গ্যাং ‘বন্ড বাহিনী’র সদস্যরা। গুরুত্বর আহতাবস্থায় রিফাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তা দেশ-বিদেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয়। হত্যাকান্ডের পরেরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় ১২ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এতে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে মামলার বিচার চলে। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় আদালতের বিচারক মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদন্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে।

মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার দাবি করে আসছে, তাকে (মিন্নি) পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তদন্তের সময় প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একজন সাক্ষীকে আসামিতে পরিণত করা হয়েছে।