মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Sunday, 28 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
27 June 2026
অন্যান্য

পাগলা মসজিদে টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে প্রায় এক বস্তা চিঠি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৪৩ বস্তা টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে প্রায় এক বস্তা চিঠি। এসব চিঠিতে ভক্তরা তাদের নানা মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি চিঠি প্রকাশ পাওয়ার পর এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার দানবাক্সে শুধু টাকা নয়, অনেক চিঠিও পাওয়া গিয়েছে, যা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি।

এসব চিঠির মধ্যে একটি চিঠিতে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। আজ শনিবার দানবাক্স খোলার সময় এসব চিঠি পাওয়া যায়।

পাগলা মসজিদে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ নিয়মিত অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার দান করেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এখানে দান করলে কিংবা চিরকুটে নিজের মনোবাসনার কথা লিখে রাখলে তা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকে দানবাক্সে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি চিঠিও রেখে যান।

উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, হে আল্লাহ, আপনি সর্বশক্তিমান। আপনার কাছে আমার একটি প্রিয় স্বপ্নের কথা জানাচ্ছি। আমি চাই ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করুক। লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বকাপের মাঠে উড়ুক এবং কোটি বাংলাদেশির স্বপ্ন পূরণ হোক। হে আল্লাহ, আমাদের দেশে ফুটবলকে উন্নত করুন, খেলোয়াড়দের সফলতা দান করুন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরার তাওফিক দিন। আমিন...(একজন স্বপ্নবাজ বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী)।’

আরেক চিঠিতে লেখা আছে "হাদি হত্যার বিচার চাই"।

আরেকটি চিঠিতে মোনালিসা নামের একজন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। অন্য একটি চিঠিতে একজন লিখেছেন, তাঁর অন্তরের মানুষ যেন তাঁর জীবনে ফিরে আসেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে চিঠি পাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবারই এমন চিঠি পাওয়া যায়। তবে এবার চিঠির সংখ্যা অন্যবারের তুলনায় বেশি। ৪৩ বস্তা টাকার সঙ্গে প্রায় এক বস্তা চিঠি পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দানবাক্সে অতিরিক্ত চিঠি রাখার কারণে অনেক সময় দান করতে আসা মানুষ টাকাও ঠিকমতো রাখতে পারেন না। এ ছাড়া এসব চিঠির ছবি বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা ধরনের হাস্যরস ও বিরূপ মন্তব্যও হয়। তাই এবার চিঠিগুলো আলাদা একটি বস্তায় ভরে মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দানবাক্সে অপ্রয়োজনীয় চিঠি না রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে আসেন। সময়ের সঙ্গে দানের পরিমাণ বাড়ছে।