মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 30 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 June 2026
অন্যান্য

দীঘিনালায় ৮ ফুটের বার্মিজ অজগর উদ্ধার, সচেতনতায় প্রশংসিত স্থানীয়ররা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় ৮ ফুট দীর্ঘ একটি বার্মিজ প্রজাতির অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীটি দেখা মাত্রই পিটিয়ে না মেরে, অত্যন্ত সচেতনতার সাথে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে অনন্য এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের পূর্ব হাচিনসনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকৃত অজগরটির ওজন প্রায় ৭ কেজি ৮০০ গ্রাম বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে পূর্ব হাচিনসনপুর এলাকার একটি ছড়ায় (জমির পানি নামার নালা) মাছ ধরার জন্য জাল পেতেছিলেন মামুন মিয়া নামে এক বাসিন্দা। সকাল ৭টার দিকে তিনি জালে বড় কোনো কিছুর উপস্থিতি টের পান। কাছে গিয়ে দেখতে পান, মাছের বদলে বিশালাকার একটি অজগর সাপ জালে পেঁচিয়ে রয়েছে। অজগর দেখার খবরে এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

​সাধারণত লোকালয়ে সাপ বা বন্যপ্রাণী চলে আসলে একশ্রেণীর মানুষের মাঝে তা পিটিয়ে মারার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে পূর্ব হাচিনসনপুর গ্রামের বাসিন্দারা দেখিয়েছেন ভিন্ন রূপ। স্থানীয় বাসিন্দা জহুর আলী ও জামাল মিয়া কালবিলম্ব না করে নিজেদের ঝুঁকিতে নিয়ে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর একটি চটের বস্তায় ভরে সেটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে দেন, যাতে সাপের কোনো ক্ষতি না হয় এবং গ্রামবাসীদের মধ্যেও আতঙ্ক না ছড়ায়।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জহুর আলী বলেন, 'মাছ ধরার জালে একটা বড় অজগর আটকে পড়েছে শুনে আমি আর জামাল দ্রুত সেখানে ছুটে যাই। সাপটিকে দেখে আমরা ভয় না পেয়ে কৌশলে উদ্ধার করি, যেন ও আঘাত না পায়। আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল বন্যপ্রাণীটিকে রক্ষা করা। এরপর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে বিষয়টি জানাই এবং তারা আসা পর্যন্ত সাপটিকে নিরাপদে আগলে রাখি।

​খবর পাওয়ার পরপরই দীঘিনালা উপজেলার মেরুং রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুরাম চাকমার নির্দেশনায় একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়। মেরুং রেঞ্জের উপ-বনরক্ষক কর্মকর্তা মো. জাফরুল্লাহর নেতৃত্বে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুততম সময়ে পূর্ব হাচিনসনপুর এলাকায় পৌঁছান। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গ্রামবাসীরা সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

​গ্রামবাসীর এই সচেতন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করে উপ-বনরক্ষক কর্মকর্তা মো. জাফরুল্লাহ বলেন, 'উদ্ধার হওয়া বার্মিজ অজগরটি লম্বায় প্রায় ৮ ফুট এবং ওজনে ৭ কেজি ৮০০ গ্রাম। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পূর্ব হাচিনসনপুর গ্রামের বাসিন্দারা আজ যে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা সাপটিকে আঘাত না করে আমাদের খবর দিয়েছেন, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। অজগরটি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে। দ্রুতই এটিকে গভীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।'

​সাপটি হস্তান্তরের সময় অন্যান্যের মধ্যে ৩ নং কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জ্ঞান, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স’-এর সংগঠক হৃদয় বড়ুয়াসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বন বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।