মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 30 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 June 2026
অন্যান্য

তিস্তার পানি কমলেও কাটেনি অববাহিকার পানির টান

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার অববাহিকার অন্তত ৫ হাজার মানুষ জলমগ্ন হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক এবং বাদাম ও সবজিসহ চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসল। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় চরাঞ্চলের বহু পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গতকাল রাতে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ সকাল থেকে তা কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্যারেজ পয়েন্টে পানি কমলেও নদীর ভাটির বেশকিছু এলাকায় এখনো পানির টান কমেনি, এছাড়া চরাঞ্চলের প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে পানি কমলেও স্বস্তি মিলছে না তিস্তাপাড়ের মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হতে পারে।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক (৪৫) বলেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকেছে, ভিজে গেছে চুলাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। পানি কমেছে তবে সব ভিজে রয়েছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া (৫২) বলেন, চরের প্রায় সাড়ে ৩ একর জমিতে বাদাম আর সবজি আবাদ করছিলাম, সব পানির নিচে। নদীটা খনন করা থাকলে হয়তো এমন দুর্ভোগ হতো না।

লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই নদীর পানি এভাবে ওঠানামা করছে। পানি বাড়া-কমার কারণে কিছু পয়েন্টে দেখা দেওয়া ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও জলমগ্ন এলাকাগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২২০ মেট্রিক টন চাল এবং সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।