মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 30 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 June 2026
অন্যান্য

বরিশাল নগরীতে ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে প্রায় দুই শতাধিক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজি ও এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলার আটকে রাখা হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, ভাড়া নৈরাজ্যের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এসব যানবাহন ছাড়া হবেনা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা কলেজের শতবর্ষ গেট ও মসজিদ গেট সংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে নগরীর ওই এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত প্রায় এক মাস ধরে বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজি ও এলপিজিচালিত থ্রি-হুইলারে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রে চালকদের সাথে যাত্রীদের বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও মারধর করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনের পথ বেঁছে নিয়েছেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিটি থ্রি-হুইলারের চালকের কাছে আদায়কৃত ভাড়ার বিষয়ে জানতে চান। যারা নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়া নিয়েছেন, তাদের যেতে দেওয়া হয়েছে।

আর যারা অতিরিক্ত ও জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করেছেন, তাদের গাড়ি ক্যাম্পাসের ভেতরে আটকে রাখা হয়। দুই গেট মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক যানবাহন আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে আসেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে বৈঠক করে জরুরি ভিত্তিত্বে নতুন ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন এবং আটক রাখা যানবাহনগুলো ছেড়ে দেন।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অপরদিকে সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ এবং নগরীতে কার্যকর তদারকির মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।