মূল খবরে ফিরে যান
যা দেখছেন, PDF-এও সেটাই থাকবে। প্রিন্ট ডায়ালগে “Save as PDF” বেছে নিন।
Tuesday, 30 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
29 June 2026
অন্যান্য

রাজবাড়ীতে ব্রয়লার বিস্ফোরণে আহত ২ শ্রমিকের মৃত্যু

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে 'ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি' নামে একটি বিটুমিন তৈরির কারখানায় ব্রয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

রবিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শ্রমিক সোহেল রানা (২৪) এবং সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯ টায় শাওন মুন্ডা (১৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণইউনিটে মারা যান বলে নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই ফারুক হোসেন।

নিহত শ্রমিক সোহেল রানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শামসুদ্দিনের ছেলে। অপর শ্রমিক শাওন মুন্ডা মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামের ছুনু মুন্ডার ছেলে।

এর আগে গত ২৫ জুন সকালে কারখানাটিতে পুরোনো গাড়ির টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন উৎপাদনের কাজ চলছিল। এ সময় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে বিকট শব্দে ব্রয়লার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত দুই শ্রমিক দগ্ধ হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা বলেন, আহত শাওন মুন্ডার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং সোহেল রানার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায় বলে জানান চিকিৎসকরা। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, আহত দুজন শ্রমিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মারা গেছে। এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি এখনো পর্যন্ত।

খোঁজে নিয়ে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই শুধু উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০২৩-২৪ সালের পুরাতন মালামাল পুড়িয়ে তেল উৎপাদন করা হচ্ছিল।

এছাড়াও পরবর্তী সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেয় সেটার মেয়াদ ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়ে যায়। এ কারখানায় প্রতি মাসে ৩-৫ লাখ আয় দেখিয়ে প্রায় দুই বছর আগে কারখানাটি সাভারের আমিন বাজার এলাকার মোঃ বাহাউদ্দীন নামে এক ব্যক্তি ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। ক্ষমতাশীল ব্যক্তির হাত থাকায় অনেকে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এই টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন কারী কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশেপাশে টেকা যায় না। তাছাড়া এই অঞ্চলের শস্য উৎপাদনের ধ্বস নেমেছে এই কারখানার কারণে। বিষাক্ত ধোঁয়ার শিশুদের মারাত্মক সব রোগ হচ্ছে। বয়স্করা শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।