30 June 2026
হাতের চাপেই ভেঙে যাচ্ছে নদীর পাড় রক্ষা বাঁধের ব্লক

নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের তেলীগাতী এলাকায় মগড়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে, ফেটে যাচ্ছে ব্লক, এমনকি কিছু ব্লক হাত দিয়েই ভেঙে ফেলা যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্লক তৈরিতে প্রয়োজনীয় সিমেন্ট ব্যবহার না করে অতিরিক্ত বালু ও মাটি মেশানো হয়েছে। ফলে সামান্য চাপেই ব্লকগুলো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে বর্তমানে প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, তেলীগাতী থেকে ছোট গারা পর্যন্ত ২ হাজার ৪৫০ মিটার নতুন সড়ক নির্মাণ এবং নদীতীর রক্ষার জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্লক স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জনি মিয়া, বেলায়েত করিম ও সুমন মিয়াসহ অনেকে অভিযোগ করেন, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্লক দেবে গেছে। তাদের আশঙ্কা, নদীর পানি আরও বাড়লে পুরো বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অনিয়মের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি এলজিইডির নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, মূল সাইটে তৈরি করা কয়েকশ ব্লক চুরি হয়ে যাওয়ার পর ঠিকাদার বাইরে থেকে কিছু ব্লক এনে ব্যবহার করেছিলেন। সেসব ব্লক নিম্নমানের হওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগের পর সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ব্লক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাঁধের কিছু অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, আগাম বৃষ্টির কারণে বাঁধের ওপরের স্তরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই পানি নিচে ঢুকে মাটি সরে গেছে। ফলে কয়েকটি স্থানে সামান্য ধস দেখা দিয়েছে। তবে কাজ শেষ হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর অল্প সময় বাকি থাকলেও কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধ ও সড়ক প্রকল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
