মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Tuesday, 30 June 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
30 June 2026
অন্যান্য

গৌরীপুরে ভোটার হতে এসে আটক রোহিঙ্গা যুবক, ১ লাখ টাকার চুক্তি দাবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে মোহাম্মদ মাসুদ (১৯) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার (২৯ জুন/২৬)দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করতে এসে তিনি আটক হন।

আটক মাসুদ কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮-এ ২০১৭ সাল থেকে বসবাস করে আসছেন। তার বাবার নাম মো. জোবায়ের এবং মায়ের নাম শাকিলা খাতুন। তাদের আদি বাড়ি মিয়ানমারের মংডু অঞ্চলে। তিনি ছয় ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোটার নিবন্ধনের জন্য জমা দেওয়া কাগজপত্রে তার নাম মোহাম্মদ মাসুদ হলেও বাবার নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মায়ের নাম শান্তনা আক্তার এবং ঠিকানা হিসেবে গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের দৌলতাবাদ গ্রামের তথ্য উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরযুক্ত নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, একটি মাদ্রাসার শিক্ষাগত সনদ এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফাওজুল কবীর খান জানান, আবেদনকারীর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

তিনি বাংলা বলতে পারলেও লিখতে পারেন না। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, দেওয়া ঠিকানায় ওই নামে কোনো ব্যক্তি নেই এবং যে মাদ্রাসার সনদ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ওই নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্যও পাওয়া যায়নি। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দালাল চক্রের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পরে তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। আটক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, কদ্দুছ বা কবীর নামে এক দালালের সঙ্গে এক লাখ টাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র করে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। তিনি অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কয়েকদিন আগে তাকে গৌরীপুরে এনে একটি হোটেলে রাখা হয়। পরে সাগর নামে এক ব্যক্তি তাকে নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসে।

আটক হওয়ার পর তারা পালিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।