01 July 2026
ইরানের বিদায়ে ‘খুশি’ মার্কিন কর্মকর্তা, ক্ষোভ তেহরানের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তা মার্কওয়েন মুলিনের একটি মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তাবিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে ইরানের বিদায়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেন তিনি। এর জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর বিশ্বকাপে দেশটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সব বাধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ইরান। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচই ড্র করলেও নকআউট পর্বে ওঠা হয়নি তাদের।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে জয় থেকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত দূরে ছিল ইরান। কিন্তু শেষ দিকে একটি বিতর্কিত অফসাইড সিদ্ধান্তে গোল বাতিল হওয়ায় ১-১ ড্র করতে হয়। ফলে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় তাদের।
বিশ্বকাপ চলাকালেই মার্কিন কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ তোলে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই ইরানকে টুর্নামেন্টের "সবচেয়ে নিপীড়িত দল" বলেও মন্তব্য করেন।
ঘালেনোইয়ের অভিযোগ ছিল, অন্য দলগুলোর তুলনায় ইরান পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি। তার দাবি, প্রয়োজনীয় অনুশীলন সুবিধার অর্ধেকেরও কম সময় দেওয়া হয়েছিল তাদের, যা দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের পর অধিনায়ক মেহদী তারেমিও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "এটি একটি জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল শুরু থেকেই সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা তা করতে পারেনি।"
এমন প্রেক্ষাপটে মার্কওয়েন মুলিনের মন্তব্য আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমি খুশি যে তারা আর বিশ্বকাপে নেই। যখন আমরা তাদের ভিসা বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলেছিলাম, তখন আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। খুশিতে হয়তো দু-একটি গানও গেয়েছিলাম, এমনকি নেচেও ফেলেছিলাম।"
এর জবাবে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে তারা বিস্মিত নয়। তাদের দাবি, শুরু থেকেই ইরানকে এই বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, "মার্কিন কর্মকর্তাদের শত্রুতাপূর্ণ আচরণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে ইরানিরা নতুন কিছু দেখছে না। এই মন্তব্য আবারও প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক আইন ও একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর আয়োজনের দায়িত্ব পালনে তারা প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।"
ফেডারেশন আরও দাবি করে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রধান কোচ যে অভিযোগ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এই টুর্নামেন্টে দেখতে চায় না সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের সঙ্গে করা আচরণ ছিল "অমানবিক ও অপেশাদার"।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের প্রস্তুতি ক্যাম্প নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রথমে অ্যারিজোনার টুকসনে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায় নেওয়া হয়। যদিও দলের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং শেষটি সিয়াটলে। প্রতিটি ম্যাচ শেষে আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হওয়ায় অতিরিক্ত ভ্রমণ ও প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ করে ইরান।
এ বিষয়ে মুলিন বলেন, "ম্যাচ শেষে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে এটাই ছিল চুক্তি। খেলা শেষে তারা তাদের বেস ক্যাম্পে ফিরে গেছে। বিষয়টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল।"
এ ছাড়া মুলিন দাবি করেন, ইরান দলের খেলোয়াড়দের বাইরে প্রতিনিধিদলের প্রায় অর্ধেক সদস্যের সঙ্গে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সরাসরি সম্পর্ক ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ইরানও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
