মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 02 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
01 July 2026
অন্যান্য

৩৮ বছরের কর্মজীবনের ইতি, ঘোড়ার গাড়ি-লাল গালিচায় বিদায় বাকৃবি অধ্যাপকের

দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন।

প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে লাল গালিচা ও ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজকীয় সম্মানে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১ জুলাই) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন শিক্ষার্থীদের প্রতি তার ভালোবাসা জানিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অধ্যাপক বাতেন বলেন, 'গতকাল বিকেলে কৃষি অনুষদ প্রাঙ্গণে বিদায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে যে এতটা ভালোবাসে, তা আমি চিন্তাও করতে পারিনি। আনন্দে আমি শুধু কাঁদতেই পারিনি। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে আমাকে বিদায় জানায়।'

অধ্যাপক বলেন, 'শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে আমাকে বিদায় দিতে চেয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে চলমান অন্যান্য ক্লাসের যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণে আমি তাদের শব্দ করতে নিষেধ করি।

পরে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাসভবনে পৌঁছে দেয়। এ সময় আমার স্ত্রী, যিনি নিজেও বাকৃবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বাসার বারান্দা থেকে পুরো দৃশ্যটি উপভোগ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, 'এর আগে দুপুর ২টায় নিজ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিচালক অধ্যাপক ড. রেহানা খাতুনের কাছে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করি। এ সময় সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে আমাকে বিদায় জানিয়েছেন।’

জানা যায়, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি কৃষি অনুষদের অধীনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হতো।

এছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শেষ কর্মদিবসে আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে বিদায় জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের এমন অভাবনীয় ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এসময় শিক্ষার্থী মো. আতিকুর রহমান বলেন, 'আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষক প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল বাতেন স্যারকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে বিদায় জানিয়েছি। তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেননি, আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দিয়েছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। এই আয়োজন ছিল তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতার প্রতীক। স্যারের শিক্ষা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করি।’