মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Thursday, 02 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
01 July 2026
অন্যান্য

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় যোগ দেবেন ৯০ দেশের প্রতিনিধি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ৯০টিরও বেশি দেশ নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (০১ জুলাই) প্রেস টিভি ও তাসনিম নিউজসহ একাধিক ইরানি সংবাদসংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির শেষকৃত্য আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রয়াত নেতার বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি বৃহৎ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আয়োজনের প্রস্তুতির জন্যই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পুরজামশিদিয়ান জানান, প্রয়াত নেতার কার্যালয় এবং ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েক দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, নেতার কার্যালয় এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে সব কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

নিরাপত্তা, লজিস্টিক, অবকাঠামো, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক বিশেষায়িত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

শেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং ইরাকে অনুষ্ঠিত হবে। তেহরান, কোম ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশে প্রাদেশিক সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুরজামশিদিয়ান বলেন, ইরান ও ইরাকের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক সমন্বয়ের পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে একটি জাতীয় আয়োজন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সমন্বয় বৈঠকগুলোতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরাকের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। বাগদাদ অথবা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার আয়োজন শেষে নাজাফ ও কারবালার পবিত্র শহরে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এর পরদিন ৯ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। সেখানে ইমাম রেজার মাজারের পাশে আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ব্যাপক অংশগ্রহণ মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণ সহজ করতে ইরান সরকার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪ ও ৫ জুলাই তেহরান প্রদেশে, ৬ জুলাই তেহরানে মূল জানাজার দিন সারা দেশে, ৭ জুলাই কোমে এবং ৯ জুলাই খোরাসান রাজাভি প্রদেশে সরকারি ছুটি থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে পুরজামশিদিয়ান জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। তেহরান মেট্রো ও সিটি বাস বিনা ভাড়ায় চলবে এবং মেট্রো সার্বক্ষণিক সেবা দেবে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য বড় পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানান তিনি।

পুরজামশিদিয়ান জানান, অনুষ্ঠান কাভার করতে ৩০০ জনের বেশি বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন। এ সময় ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং অংশগ্রহণকারীদের সহায়তায় একটি জাতীয় তথ্যসেবা হটলাইনও চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে এমন একটি স্থান দাফনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে সেখানে যেতে পারেন এবং অন্য জিয়ারতকারীদের চলাচলেও বিঘ্ন না ঘটে।