মূল খবরে ফিরে যান
এই প্রিভিউ আর চূড়ান্ত প্রিন্ট/PDF একই লেআউট ব্যবহার করে।
Monday, 27 July 2026
অন্যান্য
banglabrief.com/
সংস্করণ
02 July 2026
অন্যান্য

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশে এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ইউনেস্কো আয়োজিত **‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’** শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে আপিল বিভাগ সরকারের আপিল গ্রহণ করে রায় দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এসব পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর পাশাপাশি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি শিক্ষা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনায় পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপরিহার্য মনে হচ্ছে না। তাঁর মতে, এটি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩৩ শতাংশ, কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতিকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থের অপচয় কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রকল্প সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার শিক্ষা খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি।

দেশে মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্ভবত আমরা মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সরকারের একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা উচিত। শিক্ষা পরিচালিত হবে প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে। আমরা এখানে সহায়ক হিসেবে কাজ করছি, যাতে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।